সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কৃষক নেতৃত্বে ধান জাত গবেষণার মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের মধ্য কৈখালী গ্রামে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও মধ্য কৈখালী আইপিএম কৃষি ক্লাবের আয়োজনে ১৬২টি স্থানীয় আমন ধানের জাত নিয়ে এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক-কৃষাণী, কৃষক গবেষক দল, গ্রীন কোয়ালিশন প্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য, যুব, শিক্ষক, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা এবং বারসিকের স্টাফরা অংশ নেন।
শ্যামনগর গ্রীন কোয়ালিশনের সভাপতি কৃষ্ণান্দ মুখার্জির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৫নং কৈখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম, বারসিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শিক্ষক-সাংবাদিক রনজিৎ বর্মণ।
মাঠ দিবসের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন বারসিক কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ মন্ডল, কৃষক নেতা লোকনাথ মন্ডল, নিমাই মন্ডল, হাবিবুর রহমান, বারসিকের সহযোগী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার, কৃষানী নাজমুন নাহার, ভগবতী রানী ও লুৎফর রহমান।
বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার কারণে ধান চাষ এক বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। একসময় এ অঞ্চলে বহু স্থানীয় ধানের সমাহার থাকলেও এখন হাইব্রিড ও উফশী জাতের উপর নির্ভরতা বেড়ে গেছে। স্থানীয় ধানের বহু জাত বিলুপ্তির পথে। এসব হারিয়ে যাওয়া ধানের জাত পুনরুদ্ধার, সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে বারসিক এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় জাত টিকিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তারা মন্তব্য করেন।
অংশগ্রহণকারী কৃষক নেতা নিমাই মন্ডল বলেন, “হাইব্রিড ও উফশী ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে নানা সরকারি উদ্যোগ থাকলেও স্থানীয় জাত সংরক্ষণে তেমন উদ্যোগ নেই। খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহনশীল কৃষির জন্য স্থানীয় জাত রক্ষা করা অপরিহার্য।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃষকরা গবেষণাধীন ধান প্লট পরিদর্শন করেন এবং জলাবদ্ধতা সহনশীলতা, লবণাক্ততা সহনশীলতা, কম সার প্রয়োজন, কম পোকামাকড়, ঘন গাঁথুনি, লম্বা শিষ, চিকন দানা ও সুগন্ধসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পছন্দের জাত নির্বাচন করেন।
কৃষকদের নির্বাচিত জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে—আরমান, স্বর্ণমাশুরী, নারকেল মুচি, চিনিকানি, দারশাইল, তালমুগুর, মালাগেতী, দিশারী, নেপালি, পিঁপড়ার চোখ, সীতাভোগ ও পাটনাইসহ আরও কয়েকটি স্থানীয় ধানের জাত।