সুন্দরবনের শ্যামনগর ও কয়রা এলাকায় পৃথক অভিযানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদকদ্রব্যসহ একজন অস্ত্র ব্যবসায়ী ও দুর্ধর্ষ ‘দুলাভাই বাহিনী’র এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ভোররাতে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন কৈখালীর সদস্যরা শ্যামনগর উপজেলার ভেটখালী বাজারসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্র ব্যবসায়ী বনের ভেতর পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে মামুন কয়াল নামের এক ব্যক্তিকে (৩৫) একনলা বন্দুকসহ আটক করা হয়।
পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কৈখালীর বয়াসিং খালসংলগ্ন এলাকা থেকে একটি বিদেশি ৯ এমএম পিস্তল, একটি ওয়ান শুটার গান এবং আট রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি বিজিবির সহায়তায় তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২০ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল জব্দ করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, মামুন কয়াল দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। আটক ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র-মাদকের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
অন্যদিকে, গত শনিবার (৮ নভেম্বর) মধ্যরাতে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার স্টেশন কয়রা সুন্দরবনের খাশিটানা খালসংলগ্ন মুরুলি খাল ও ছেড়াখাল এলাকায় দুর্ধর্ষ ‘দুলাভাই বাহিনী’র বিরুদ্ধে অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল বোট লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়ে। কিছুক্ষণ গোলাগুলির পর ডাকাত সদস্যরা রাতের অন্ধকারে বনের ভেতর পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনার সূত্র ধরে খুলনা জেলার কয়রা থানা এলাকা থেকে দুলাভাই বাহিনীর সহযোগী মোঃ সোলায়মান (৫০) কে আটক করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে কোস্ট গার্ড পুনরায় অভিযান চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, ১০ রাউন্ড তাজা গুলি, ২৬ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৪৪টি চকলেট বোমা, ৩০টি মোবাইল ফোন, একটি বাইনোকুলার, একটি ওয়াকি টকি, চারটি দেশি অস্ত্র ও ২০ গ্রাম গাঁজাসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে।
কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা জানান, আটক সোলায়মান দীর্ঘদিন ধরে ‘দুলাভাই বাহিনী’র সঙ্গে যুক্ত থেকে ডাকাতি, অস্ত্র ও রসদ সরবরাহে সহযোগিতা করে আসছিল। জব্দ করা অস্ত্র ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।