April 20, 2026, 2:41 pm
শিরোনাম :
সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে কোস্ট গার্ড শ্যামনগরে নদীর চরে গাছ হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন রমজাননগরে গোফরইমপ্যাক্ট প্রোগ্রামের আওতায় অর্ধ বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত বন্য শুকর লোকালয়ে : কৈখালী ফরেষ্ট কর্তৃক সুন্দরবনে অবমুক্ত শ্যামনগরে সুন্দরবনের মধু আহরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত জোনাব বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা ১ জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর আস্তানা ধ্বংস ও মালামাল জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড শ্যামনগরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রমজাননগরে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সেমিনার অনুষ্ঠিত জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে কোস্ট গার্ড ও নৌ বাহিনী।

শ্যামনগরে সেটেলমেন্ট কারসাজি: কোটি টাকার রায়ে ঘরবাড়ি গেল অন্যের নামে

নয়াডাক ডেস্ক :

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপ‌জেলার কৈখালী ইউনিয়‌নের জয়াখালী গ্রামে খুলনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসারের দেওয়া এক বিতর্কিত রায়ের ফলে প্রায় ৩০ জন গ্রামবাসী তাদের বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, কোটি টাকার বিনিময়ে আইন লঙ্ঘন করে অন্যের জমি ও বাড়িঘর ভুয়া বাদীর নামে রেকর্ড করে দিয়েছেন জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার রাজিব আহাম্মেদ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসএ ম্যানুয়াল ১৯৩৫ এর ৫৩৩ ধারা মোতাবেক ‘জালিয়াতি এন্ট্রি সংশোধনের’ কথা থাকলেও জয়াখালীর কৈখালী মৌজা এখনও সরকারিভাবে পাবলিষ্ট হয়নি। এর আগেই “মিস মামলা নং-৮২৭/২৪”-এ একতরফা রায়ে রেকর্ড পরিবর্তন করে আলাদা খতিয়ান খোলা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, এটি যেন “বিয়ে হওয়ার আগেই সন্তানের জন্ম” দেওয়ার মতো ঘটনা।

অভিযোগ অনুযায়ী, জয়াখালী গ্রামের মৃত আহমদাদ গাজীর ছেলে মোজাদ্দীদ দিং-এর দীর্ঘ ৬০ বছরের দখলীয় বাড়ি (দাগ নং ৪৯৩৬) অন্যের নামে রেকর্ড করে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে হাফিজুরের বাড়ি শহিদের নামে, আমিরুলের বাড়ি মজিদের নামে, শহিদুলের বাড়ি খয়রাতের নামে রেকর্ড করা হয়েছে। এমনকি মৃত ব্যক্তিদের বাদী সাজিয়েও রায় দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৩৫-৪০ জনের ঘরবাড়ি অন্যের নামে চলে গেছে।

ভুক্তভোগী মোজাদ্দীদ ও আমিরুল জানান, সেটেলমেন্ট অফিসের পিয়ন জাকির স্থানীয় কয়েকজন দালালের সহায়তায় কোটি টাকা তুলে অফিসার রাজিব আহাম্মেদকে ঘুষ দিয়েছেন। এর ফলেই এই ‘বেআইনি’ রায় এসেছে। তারা অভিযোগ করেন, “আমাদের দখল আছে, কাগজ আছে। কিন্তু মৌজা পাবলিষ্ট হওয়ার আগেই এভাবে রেকর্ড দেওয়ায় আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি।”

গ্রামবাসীর আশঙ্কা, এই রায়ের কারণে এলাকায় ব্যাপক অশান্তি ও দাঙ্গা সৃষ্টি হতে পারে। স্থানীয়দের দাবি, বৃটিশরা যেমন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন দিয়ে জনগণকে শোষণ করেছিল, আজ তেমনি সেটেলমেন্ট অফিস চিরস্থায়ী দাঙ্গার ফাঁদ তৈরি করছে।

ভুক্তভোগীরা ইতিমধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে ডিজি সেটেলমেন্টের কাছে অভিযোগ করেছেন এবং রায় বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা