সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণে নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় এলাকার হাজারো জেলে-বাওয়ালী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ৩১ আগস্ট সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ উন্মুক্ত হওয়ার প্রত্যাশায় ইতোমধ্যে নৌকা, জাল, দড়ি, খাবারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করতে শুরু করেছেন বনজীবীরা।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর, মুন্সিগঞ্জ, বুড়িগোয়ালিনী, গাবুরা, পদ্মপুকুরসহ সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সুন্দরবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বন বিভাগের অনুমতি ও বৈধ পাস-পারমিট নিয়ে তারা সুন্দরবনে প্রবেশ করে মাছ, কাঁকড়া ও অন্যান্য বৈধ বনজ সম্পদ আহরণ করেন।
সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ শুধু তাদের জীবিকার পথই নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পরিবারের খাদ্য, সন্তানের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের ব্যয়। নিষেধাজ্ঞার সময়ে অনেক জেলে-বাওয়ালী বিকল্প পেশায় দিন কাটিয়েছেন। কেউ দিনমজুরি করেছেন, কেউ ছোটখাটো ব্যবসা করেছেন, আবার কেউ ধার-দেনা করে সংসার চালিয়েছেন।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর সুন্দরবনে প্রবেশের সময় ঘনিয়ে আসায় তাদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয় জেলেরা জানান, বনে যাওয়ার আগে নৌকা মেরামত, জাল ঠিক করা, কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম প্রস্তুত করা এবং প্রয়োজনীয় খাবার ও সামগ্রী সংগ্রহ করতে হয়। তাই তারা এখন প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তবে বনজীবীদের দাবি, বৈধ পাস-পারমিট প্রক্রিয়া যেন সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করা হয়। প্রকৃত জেলেদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি দালাল ও অবৈধ মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
জেলে-বাওয়ালীরা মনে করেন, সুন্দরবন তাদের জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন হলেও এর প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। অবৈধভাবে মাছ ধরা, বিষ প্রয়োগ করে মাছ আহরণ, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার, বন্যপ্রাণী শিকার কিংবা বনের সম্পদ ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
এদিকে সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশের সুযোগ ঘিরেও স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে কর্মচাঞ্চল্যের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। পর্যটন কার্যক্রম বাড়লে নৌযান চালক, গাইড, হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর সুন্দরবনে যাওয়ার সুযোগকে কেন্দ্র করে উপকূলের জেলে-বাওয়ালীদের মধ্যে এখন উৎসবের আমেজ। নৌকায় নতুন জাল তোলা, পুরোনো সরঞ্জাম মেরামত এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহে ব্যস্ত তারা।
জেলে-বাওয়ালীদের এখন একটাই অপেক্ষা—আর মাত্র ৬ দিন পর সুন্দরবনের নদী-খালে আবার জাল ফেলতে পারবেন তারা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেই দিনটি তাদের পরিবারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে, মুখে ফুটবে হাসি—এমন প্রত্যাশাই উপকূলের বনজীবী মানুষের।