সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে চালু হওয়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচি-এর আওতায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুশীলন কর্তৃক সরবরাহকৃত বন রুটি দূর্গন্ধ ও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২০ শে জুন ( শনিবার) শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের ১৮ নং পশ্চিম কৈখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় , ১৭৮ নং মহাজেরিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় , ১৩২ নং মধ্য কৈখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় , সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে চালু হওয়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচি-এর আওতায় শ্যামনগরে সুশীলন কর্তৃক সরবরাহকৃত বন রুটি দূর্গন্ধ ও ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে। চুক্তিতে নির্ধারিত ওজনের ১২০ গ্রামের চেয়ে অনেক কম ওজনের এবং নিন্মমানের রুটি সরবরাহ করা হচ্ছে। ১৮ নং পশ্চিম কৈখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মশিউর রহমান এবং ১৩২ নং মধ্য কৈখাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আমজাদ হোসেন বলেন , ছাত্র/ছাত্রীদের মাঝে স্কুল ফিডিং বিতরন করার পূর্বে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদারকি কমিটি খাদ্যর মান যাচাই করা হয়। আজ বন রুটি যাচাই করার সময় রুটির মধ্যে থেকে প্রচন্ড দূর্গন্ধ পাই। যার ফলে রুটি বিতরন বন্ধ করে বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ও সরবরাহকৃত প্রতিষ্ঠান সুশীলনকে অবগত করি। তারা আরও জানান, প্রথমে মান সম্মত রুটি সরবরাহ করলেও বর্তমানে ওজনে কমসহ নিন্মমানের রুটি বিতরন করছে। রুটির কোন সাধ না থাকায় বাচ্চারা খেতে চায় না। ১৮ নং পশ্চিম কৈখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ইরিনা , ইরানি , জাহিদুল ইসলাম, মোছাঃ নাজমা খাতুন , মোছাঃ আয়েশা খাতুনসহ বেশ কয়েকজন জানায়, স্যারেরা রুটি দেওয়ার সময় দূর্গন্ধ বুঝতে পেরে আমাদের খেতে দেয়নি। প্রায় সময় নিন্মমানের রুটি দিচ্ছে, যার কোন স্বাদ নেই। এ বিষয়ে বন রুটি সরবরাহকৃত প্রতিষ্ঠান সুশীলনের ম্যানেজার মোঃ আব্দুল জলিল বলেন , রুটির দূর্গন্ধের বিষয়টি আমরা জানার পরে শিক্ষকদের রুটি বিতরন করতে নিষেধ করেছি এবং বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। এ সময় তিনি ওজন কমের বিষয়টি অস্বীকার করেন। শ্যামনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ এনামুল হক বলেন , বিষয়টি সম্পর্কে আমি শুনেছি এবং উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।